শনিবার, ১১ জুলাই ২০২৬, ০১:০২ অপরাহ্ন
বাজেটে চিনি-তেল সস্তা, ব্যাট হাতে নিন কম দামে!
অনলাইন ডেস্ক
২০২৫-২৬ অর্থবছরের প্রস্তাবিত বাজেটে সাধারণ মানুষের নিত্যব্যবহার্য পণ্যের দামে স্বস্তি আনার ঘোষণা এসেছে। কমতে চলেছে চিনি ও সয়াবিন তেলের মতো জরুরি পণ্যের দাম। এ ছাড়াও সস্তা হতে যাচ্ছে জনপ্রিয় খেলার অনুষঙ্গ—ক্রিকেট ব্যাট। পাশাপাশি ঋণপত্রে উৎসে করেও এসেছে স্বস্তির বার্তা।
সোমবার (২ জুন) বিকেলে একযোগে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম বিটিভি ও বিভিন্ন বেসরকারি গণমাধ্যমে বাজেট ঘোষণা করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
এই বাজেট অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম প্রয়াস। স্মরণ করিয়ে দেওয়া যায়, ২০০৭-০৮ ও ২০০৮-০৯ অর্থবছরে তৎকালীন তত্ত্বাবধায়ক সরকারের অর্থ উপদেষ্টা এ বি মির্জ্জা মো. আজিজুল ইসলামও বাজেট উপস্থাপন করেছিলেন সম্প্রচার মাধ্যমে।
অর্থ উপদেষ্টা বলেন, নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের আমদানিতে ঋণপত্রে উৎসে কর ১ শতাংশ থেকে কমিয়ে করা হয়েছে মাত্র শূন্য দশমিক শূন্য পাঁচ (.০৫) শতাংশ।
তিনি জানান, এ উৎসে কর রাজস্বের ক্ষেত্রে বড় প্রভাব ফেলে না। তবে অনেক ব্যবসায়ী এটিকে পণ্যের দাম বাড়ানোর অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করে থাকেন। সে কারণে উৎসে কর কমিয়ে সাধারণের জন্য স্বস্তির সুযোগ তৈরি করা হয়েছে।
এই সিদ্ধান্তের ফলে ধান, গম, আলু, পেঁয়াজ, রসুন, মটরশুঁটি, ছোলা, মসুর ডাল, আদা, হলুদ, শুকনা মরিচ, ভুট্টা, আটা, লবণ, চিনি, ভোজ্যতেল, দারুচিনি, বাদাম, লবঙ্গ, খেজুর, কম্পিউটার ও যন্ত্রাংশ এবং বিভিন্ন ফলমূলের দাম কমে যেতে পারে।
ক্রিকেট ব্যাটে টানবে হাত, নয় পকেট
ক্রিকেট এখন কেবল খেলা নয়, এক প্রকার আবেগ। দেশে এখন ব্যাট তৈরি হচ্ছে শিল্পকারখানায়। দেশি ব্যাট বিদেশে পাঠানোর উদ্যোগও নেওয়া হচ্ছে। প্রান্তিক পর্যায়ে সাশ্রয়ী মূল্যে ব্যাট পৌঁছে দিতে ব্যাট তৈরির কাঠ আমদানিতে ৩৭ শতাংশের শুল্ক কমিয়ে ২৬ শতাংশ করার প্রস্তাব করা হয়েছে।
অন্তর্বর্তী সরকারের এই বাজেটটি এসেছে একাধিক অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের প্রেক্ষাপটে। যেখানে স্থিতিশীলতা, কর্মসংস্থান, ও রাজস্ব আহরণকে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
এবার বাজেটের প্রস্তাবিত আকার ৭ লাখ ৯০ হাজার কোটি টাকা—যা ২০২৪-২৫ অর্থবছরের মূল বাজেটের তুলনায় ৭ হাজার কোটি টাকা কম। বাংলাদেশের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো বাজেটের আকার কমানো হয়েছে।
রাজস্ব আদায়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৪ লাখ ৯৯ হাজার কোটি টাকা, এবং ঘাটতি ধরা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা—জিডিপির ৩.৬২ শতাংশ। এ ঘাটতি পূরণ হবে বৈদেশিক ঋণ, ব্যাংক ঋণ ও সঞ্চয়পত্রের মাধ্যমে।
মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ, সামষ্টিক অর্থনীতিতে ভারসাম্য ফিরিয়ে আনা, এবং গ্রামীণ কর্মসংস্থান ও অবকাঠামো উন্নয়নের প্রতিও রয়েছে বিশেষ গুরুত্ব।
সাধারণত বাজেট ঘোষণা হতো জুনের প্রথম বৃহস্পতিবার। কিন্তু এবছর ঈদুল আজহার আগে ২ জুন বাজেট ঘোষণা করা হয়। বাজেট–পরবর্তী সংবাদ সম্মেলন হবে মঙ্গলবার (৩ জুন) বিকেল ৩টায় ঢাকার ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে। সেখানে গণমাধ্যমকর্মীরা সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন।
এবার সংসদ না থাকায় বাজেট নিয়ে কোনো সংসদীয় বিতর্ক হবে না। তবে প্রস্তাবিত বাজেট নিয়ে জনমত সংগ্রহ করবে অর্থ মন্ত্রণালয়। সেই মতামতের ভিত্তিতে বাজেটের চূড়ান্ত সংস্করণ উপস্থাপন করা হবে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে।
এই বৈঠকে অনুমোদনের পর রাষ্ট্রপতির জারি করা একটি অধ্যাদেশের মাধ্যমে ১ জুলাই থেকে কার্যকর হবে ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেট।